মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বাবুখালী ইউনিয়নের চালিমিয়া গ্রামে সাবেক এক ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। আহত ব্যক্তিকে প্রথমে মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে চালিমিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও সাবেক ইউপি সদস্য মতিউর রহমান (৬৫) মোটরসাইকেলে করে বাবুখালী বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। চালিমিয়া জামে মসজিদসংলগ্ন সেতুর ওপর পৌঁছালে তাঁর ভাতিজা অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য আমিরুল ইসলাম মধু ও তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজন মোটরসাইকেল আরোহী পথরোধ করেন বলে অভিযোগ।
পরে পারিবারিক ও স্থানীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন আহতের স্বজনরা। এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে মতিউর রহমানের ডান পায়ের হাঁটুর নিচে কোপ দেওয়া হয় এবং লাঠিসোঁটা দিয়ে তাঁকে মারধর করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনরা তাঁকে উদ্ধার করে মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
আহত মতিউর রহমান চালিমিয়া গ্রামের মৃত খালেক মোল্লার ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন বাবুখালী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
পুলিশের প্রাথমিক তথ্যমতে, অভিযুক্ত আমিরুল ইসলাম মধু ও আহত মতিউর রহমান স্থানীয়ভাবে ভিন্ন রাজনৈতিক বলয়ের সমর্থক হিসেবে পরিচিত। এ কারণে ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ঘটনার পর আহতের স্বজনদের মধ্যেও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় নজরদারি করছে বলে জানা গেছে।
মহম্মদপুর থানার পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় মামলা দায়েরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন ছিল।
স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন