দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পানিসঙ্কট, লবণাক্ততা ও নদী ব্যবস্থাপনার দীর্ঘদিনের সংকট মোকাবেলায় অবশেষে অনুমোদন পেল বহুল আলোচিত পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প। প্রায় ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা ব্যয়ের এ মেগা প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।
বুধবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়। বিএনপি সরকার গঠনের পর এটি প্রথম বড় মেগা প্রকল্প হিসেবে অনুমোদন পেল।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়িত হবে এই প্রকল্প। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড ২০৩৩ সালের জুনের মধ্যে এর কাজ শেষ করবে বলে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
কী থাকছে প্রকল্পে
রাজবাড়ীর পাংশা এলাকায় পদ্মা নদীর ওপর নির্মিত হবে প্রায় ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি ব্যারেজ। এতে থাকবে ৭৮টি স্পিলওয়ে গেট, ১৮টি আন্ডার স্লুইস, দুটি ফিশ পাস এবং নেভিগেশন লক।
এ ছাড়া গড়াই, চন্দনা ও হিসনা নদীর অফ-টেক অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি ব্যাপক ড্রেজিং ও পুনঃখনন কার্যক্রম হাতে নেওয়া হবে। প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১৩৫ কিলোমিটার নদী ড্রেজিং এবং ২৪৬ কিলোমিটার নদীপথ পুনঃখননের পরিকল্পনা রয়েছে।
উপকৃত হবে ১৯ জেলা
খুলনা, বরিশাল, রাজশাহী ও ঢাকা বিভাগের মোট ১৯টি জেলা এ প্রকল্পের সুফল পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে কৃষিতে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি, নদীর নাব্যতা রক্ষা, লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণ এবং সুন্দরবনে স্বাদু পানির প্রবাহ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এই ব্যারেজ।
যশোরের ভবদহ অঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসন ও ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণ বৃদ্ধির বিষয়টিও প্রকল্পে গুরুত্ব পেয়েছে।
উৎপাদন হবে জলবিদ্যুৎও
প্রকল্পের অংশ হিসেবে ১১৩ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে মূল ব্যারেজ থেকে ৭৬ দশমিক ৪ মেগাওয়াট এবং গড়াই অফ-টেক থেকে ৩৬ দশমিক ৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে হাইড্রো পাওয়ার প্ল্যান্ট নির্মাণ করা হবে।
ফারাক্কার প্রভাব মোকাবেলার লক্ষ্য
সরকার বলছে, ভারতের ফারাক্কা বাঁধ-এর কারণে শুষ্ক মৌসুমে পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ায় দক্ষিণাঞ্চলে যে মরুকরণ ও লবণাক্ততা বৃদ্ধি পেয়েছে, তা মোকাবেলায় এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তবে পরিবেশগত প্রভাব, আন্তঃদেশীয় নদী ব্যবস্থাপনা এবং ভারতের সঙ্গে পানি বণ্টন নিয়ে ইতোমধ্যেই নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।
এর আগে কয়েক দফা একনেক সভায় উপস্থাপন করা হলেও বিভিন্ন কারণে অনুমোদন পায়নি প্রকল্পটি। অবশেষে বিএনপি সরকারের তৃতীয় একনেক বৈঠকে এটির চূড়ান্ত অনুমোদন
মন্তব্য করুন