মিরপুরের উইকেটে ম্যাচটা যেন দুই ভিন্ন গল্পের মিশেল- একদিকে আগুনঝরা পেস বোলিং, অন্যদিকে চাপ সামলে আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিং। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড লড়াই ঠিক এমনই নাটকীয় রূপ নিয়েছে।
প্রথমে বল হাতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় বাংলাদেশ। নাহিদ রানার গতিময় বোলিংয়ে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং লাইনআপ যেন দিশেহারা। লাইন-লেন্থ আর গতি- দুটোর নিখুঁত সমন্বয়ে তিনি একাই ভেঙে দেন কিউইদের ভিত। ১০ ওভারে মাত্র ৩২ রান দিয়ে ৫ উইকেট, সংখ্যাটা যেমন চোখে পড়ার মতো, তার বোলিং ছিল তার চেয়েও বেশি প্রভাবশালী।
নিউজিল্যান্ডের হয়ে একমাত্র প্রতিরোধ গড়েন ওপেনার নিক কেলি। তার ৮৩ রানের ইনিংস না থাকলে দলীয় সংগ্রহ আরও অনেক নিচে নামত। তবে দলীয়ভাবে তারা কখনোই ম্যাচে আধিপত্য বিস্তার করতে পারেনি। শরিফুল ইসলামের নিয়ন্ত্রিত বোলিং এবং অন্য বোলারদের সহায়তায় শেষ পর্যন্ত ১৯৮ রানে গুটিয়ে যায় সফরকারীরা।
ছোট লক্ষ্য, কিন্তু শুরুটা ছিল উদ্বেগের। মাত্র ২১ রানেই দুই ওপেনার সাইফ হাসান ও সৌম্য সরকার ফিরে গেলে চাপ তৈরি হয় বাংলাদেশের ওপর। তবে এখান থেকেই গল্পের মোড় ঘোরান তানজিদ হাসান ও নাজমুল হোসেন শান্ত।
তানজিদের ব্যাটে ছিল আগ্রাসন, আত্মবিশ্বাস আর নিয়ন্ত্রিত ঝুঁকি নেওয়ার সাহস। মাত্র ৩৩ বলে ফিফটি তুলে নেওয়ার মুহূর্তটা ছিল ইনিংসের টার্নিং পয়েন্ট। বিশেষ করে ডিন ফক্সক্রফটকে উড়িয়ে মারা সেই শট যেন তার ইনিংসের প্রতীক, নির্ভীক, দৃঢ় এবং ম্যাচ জেতার মানসিকতায় ভরপুর।
অন্য প্রান্তে শান্ত খেলেছেন দায়িত্বশীল ইনিংস। তিনি ঝড় তোলেননি, কিন্তু ইনিংসকে ধরে রেখেছেন। এই জুটির ৯০ বলে ৯৫ রানই মূলত ম্যাচটাকে বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে এনে দেয়।
এখন সমীকরণ সহজ, ৩১ ওভারে দরকার ৮৩ রান, হাতে ৮ উইকেট। পরিসংখ্যান বলছে বাংলাদেশ এগিয়ে, কিন্তু ক্রিকেটে শেষ কথা বলা হয় মাঠে। তবে যেভাবে তানজিদ-শান্ত জুটি ব্যাট করছে, তাতে জয় এখন নাগালের মধ্যেই।
এই ম্যাচটা শুধু একটি জয়ের সম্ভাবনা নয়- এটি বাংলাদেশের তরুণদের আত্মবিশ্বাসের প্রতিচ্ছবি। নাহিদের আগুনঝরা বোলিং আর তানজিদের সাহসী ব্যাটিং যেন নতুন দিনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
মন্তব্য করুন